আজ মন বারেবার ফিরে পেতে চায় হারিয়ে যাওয়া প্রাক্তন কে।

আজ মন বারেবার ফিরে পেতে চায় হারিয়ে যাওয়া প্রাক্তন কে।

আজ মন বারেবার ফিরে পেতে চায় হারিয়ে যাওয়া প্রাক্তন কে।

 

আজ মন বারেবার ফিরে পেতে চায় হারিয়ে যাওয়া প্রাক্তন কে।

           ১১ ই নভেম্বর, তিথির জন্মদিনের আগের দিন হঠাৎই দুপুরবেলা আলোকের ফোন। বড্ড অবাক হয়ে যায় তিথি কিন্তু ফোন ধরতে পারিনি সে। ফোন কেটে যাওয়ার পর আলোক মেসেজ করে ” আমাকে তোর কলেজের শাড়ি পড়া সেই পছন্দের ছবিটা পাঠা তাড়াতাড়ি “। তিথি রিপ্লাই দিল “কেন”। সদ্য একদিন আগে ব্রেকআপ হওয়া সম্পর্কটা আবার কেন নতুন করে জগতে চাইছে কেন! এক সেকেন্ডের জন্য ভাবলো তিথি। ঘুরিয়ে ফোন করার পর তিথি জিজ্ঞেস করলে কেন চাইছে, আলোক বল্লো দেনা দরকার আছে। হোয়াটসঅ্যাপ খুলে দেখল অলরেডি তিন চারটে মেসেজ ঢুকে গেছে তারপর তিথি রিপ্লাই দিলো “কোলাজ বানাবি? ” আলোক বললো না, “তাহলে?” উল্টে প্রশ্ন করলো তিথি। আলোক বলল ” সোমবার পড়তে যেতে হবে না আমার সাথে দেখা করবি ” তিথি মনে মনে ভাবল এই কথাটা শুনার জন্য 1 বছর অপেক্ষা করেছে তিথি কিন্তু কোনদিনও আলোক তাকে নিজে থেকে দেখা করতে বলেনি আজ সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর আলোক তাকে দেখা করতে বলছে এটা খুবই কষ্টদায়ক। শুধুমাত্র জন্মদিনের উপহার দেওয়ার জন্য এই প্রথমবার আলোক নিজে থেকে তিথি কে ডাকলো কিন্তু তিথী বললো “না রে আমি পারবনা দেখা করতে, শুধু দেখা করতেই না তোর থেকে কিছু নিতে ও পারবো না আমি দয়া করে  আলোক ক্ষমা করে দে আমায় ” তখন আলোক বলল যে “এমন কেন তুই” তার উত্তরে তিথি বললো “আমি এমনই ”

 

খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে যে মেয়েটা অল্প অল্প করে রোজ ভালোবাসা দেখতো চাঁদের সাথে তারা দের সাথে, সেই মেয়েটা ও একদিন ভালোবেসে ফেলল একজনকে। হাজার কষ্ট দুঃখ সব কিছু কে টপকে ভালো থাকার জন্য একটা জায়গা খুঁজে পেলো সে যেখানে শুধুই সে আর তার ইচ্ছার আস্কারা পায় ছেলেমানুষি গুলো বড়ো হতে হতে পরিণত হয়। ৮ মাস পর হঠাৎই ঘটে গেল ছন্দপতন, ছেড়ে চলে গেল ভালোবাসার মানুষটি তারপর সেই একা পৃথিবী, একার কষ্ট, একার কান্না, একলা আকাশ, একলা চিলেকোঠা, রোদ মাখা শীতকাল, গাছের আড়ালে লম্বা টাওয়ার, মন্দিরের বাক, সরকার টি স্টল, শহরের রাস্তা সব কিছুই অচেনা হয়ে উঠল তিথির কাছে। বিভীষিকা জিবনে প্রবেশ করলো আলোক।

আলোক, একটা উদ্যম, রসিক, বুদ্ধিদীপ্ত, ছটফটে, ভেতরে ভিতরে শান্ত স্বভাবের ছেলে। তিথি ভেবেছিল ভালোই থাকবে সে ভুলতে সহজ হবে তার অতি সহজেই আপন করে নেবে আলোক। কিন্তু তার ভুল ভাঙ্গে সম্পর্কের চার মাস পর থেকে না পারে ছাড়তে না পারে জড়াতে। প্রথম দিকে অনেকে বারন করেছিল কিন্তু শোনেনি তিথি, সুন্দর সম্পর্কটা যখন আস্তে আস্তে অবহেলার দিকে এগোচ্ছে খারাপ থাকা টা তখন থেকেই শুরু হয়। সম্পর্কের শুরুতে কেউই কারুর প্রক্তনকে ভুলতে পারে না, যত দিন এগোয় অধিকারবোধ জন্মায় তিথির দিক থেকে অপর দিক থেকে শুধুই অবহেলা আর মৃতপ্রায় সম্পর্কটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শপথ। আদুরে আহ্লাদী মেয়েটা কেমন যেনো একা হয়ে যেতে লাগে, তার রাগ অভিমান বোঝে না আলোক। বোঝে না নাকি বুঝেও না বোঝার ভান করে জানা ছিলনা তিথির। রোজই এক বিষয়ে কথা হতো ওদের, বিষয়টা হলো ওদের সম্পর্কের। ভালো নেই ওদের দুজনের মধ্যে কেউই। অকপট দুজন সব সত্যি মিথ্যে নিয়ে কথা বলতে থাকে একবার আলোক বলেই ফেলে তাদের সম্পর্কের কোন ভবিষ্যৎ নেই আর এই মুহূর্তে বাড়িতে জানাজানি হলে বিয়ে করা সম্ভব নয় আর আলোকের পক্ষে। এর আগেও তিন-চারবার বিচ্ছেদ হয়েছে ওদের কিন্তু থাকতে পারেনি কেউই। শেষবার বিচ্ছেদে তিথি আর ফিরে তাকাইনি, অন্তত তার প্রাক্তন এর মত সম্পর্ক শেষ করে নি যোগাযোগ রেখেছে সে।

আজ বারেবার ফিরে পেতে চায় তার হারিয়ে যাওয়া প্রাক্তন কে। জানে সেটা ভুল তবুও, বহু কাটা ছেরার মধ্যে দিয়ে তাদের সম্পর্কের ইতি ঘটেছিল। সে যেনো শেষ হয়েও হইলনা শেষ, এমনটা। কলেজ ছাত্রী তিথির জীবনে চাওয়া পাওয়া থেকে ভালোবাসা শব্দটা উঠে গেলো। এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হবে ভাবেনি কোনো দিনও সে। আস্তে আস্তে এগিয়ে যায় বিয়ের দিকে বাবা মা পাত্র দেখা শুরু করে। পাত্র পক্ষ বাড়ি আসে ওকে দেখতে, পছন্দ হয় এবং বিয়ের পিড়িতে ওঠে তিথি। পাত্র ভালো চাকরি করে বনেদি বাড়ি তাতেই সন্তুষ্ট বাবা মা। তিথিও না বলেনি, বিয়ে সম্পন্ন হয় শশুরবাড়ি যায় তিথি।  নতুন করে বাঁচার তাগিদে অল্প অল্প করে ভালোবাসতে শুরু করে বিক্রমকে। সুখে সংসার সাজায় দুজন। তিথির অপূর্ণ ভালোবাসা পূর্ণতা পায় বিক্রমের কাছে, কারণ বিক্রম যে একেবারে তার প্রথম পুরুষের মত। এটাই অদ্ভুত একটা অনুভুতি।।

 

      জীবন নদী চলতে থাকবে, কখনো সুখ কখনো দুঃখ ।

       ভাঙ্গবেনা পার একূল ওকূল বয়ে চলাটাই মুখ্য

Leave a Reply

Related Post

” ফিরে পাওয়ার সময় ফেরেনি, বসন্ত ফিরেছে বহুবার! “” ফিরে পাওয়ার সময় ফেরেনি, বসন্ত ফিরেছে বহুবার! “

” ফিরে পাওয়ার সময় ফেরেনি, বসন্ত ফিরেছে বহুবার! “ সারা জীবন ধরে মায়ের দোষ,শুনে আসা একলা মেয়েটারও একটা আত্মকথা থাকতে পারে সেটা বোঝে না অনেকেই। উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা বাবার মুখের

কিছু ক্ষন পর রিপ্লাই এলো " eyeliner "

কিছু ক্ষন পর রিপ্লাই এলো ” eyeliner “কিছু ক্ষন পর রিপ্লাই এলো ” eyeliner “

কিছু ক্ষন পর রিপ্লাই এলো  “eyeliner” তখন রাত ২:৪৫ ড্রেসিং টেবিলের প্ল্যানটা সবে শেষ হলো। তার সাথে কথা বলতে বলতে কিছুক্ষন চুপ করে গেছি পরের আঁকা শুরু করতে। রিপ্লাইটা পেতে

ব্যস্ত শহরের আনাচে-কানাচে আজও প্রজ্জ্বলিত বিহান হিয়ার স্মৃতিরা !

ব্যস্ত শহরের আনাচে-কানাচে আজও প্রজ্জ্বলিত বিহান হিয়ার স্মৃতিরা !ব্যস্ত শহরের আনাচে-কানাচে আজও প্রজ্জ্বলিত বিহান হিয়ার স্মৃতিরা !

ব্যস্ত শহরের আনাচে-কানাচে আজও প্রজ্জ্বলিত বিহান হিয়ার স্মৃতিরা ! বিহান আবারও চায় তার সাথে একবার দেখা হোক হিয়ার, তারা দুজনে আবার তাকাবে দুজনের দিকে চেনা গন্ধে সম্মোহিত হবে দুজনে আবার।

%d bloggers like this: