” ফিরে পাওয়ার সময় ফেরেনি, বসন্ত ফিরেছে বহুবার! “

” ফিরে পাওয়ার সময় ফেরেনি, বসন্ত ফিরেছে বহুবার! “

সারা জীবন ধরে মায়ের দোষ,শুনে আসা একলা মেয়েটারও একটা আত্মকথা থাকতে পারে সেটা বোঝে না অনেকেই।
উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা বাবার মুখের ওপর কথা বলার সাহস মেয়েটা তার মা এর কাছেই পায় আজকাল। আজ আর চুপ থাকে না সে। ২০ টা বছর ধরে মা এর ওপর অত্যাচার দেখে এসেছে সে। মা এর সঙ্গী হিসাবে তাকেও কম কিছু সহ্য করতে হয়না। বড়ো বাড়ি গাড়ি সাজানো সংসারের ভিতরের রূপটা অনেকেরই অজানা। তিনটে অপারেশন ঠেকিয়ে আজও লড়াই করে। মনের গভীরে খোঁজ নিলে জানতে পারতো কতটা রক্ত বেরোয় রোজ রোজ, কত বার একটা মন কবরে শায়িত হয় আঘাতে আঘাতে। এ আঘাত অন্যের দেওয়া নয়। আপনজনের কাছ থেকেই পাওয়া।
কার কথা বলতে গিয়ে কোথায় চলে যাচ্ছি রাস্তা হারিয়ে! আসলে এই জীবন বড়োই জটিল। এক জনের সাথে অন্য জনের জীবন জড়িয়ে থাকে।
পারিবারিক অশান্তিতে জর্জরিত মেয়েটির জীবন থমকে গেছে আট বছর বয়শেই। এই থমকে যাওয়া ইচ্ছাকৃত নয়, বরং অনেক টাই অনিচ্ছাকৃত। ভাই হয় তার, দিদি হয় সেই মেয়েটি। মায়ের কাছে বায়না করা খেলার সাথী পায় সেই ছোট্ট মেয়েটি। ভারি আনন্দে সবাইকে বলে তার ভাই হোয়েছে। ভাই কে নিয়ে বাড়ির লোকের আদর, একমাত্র বংশের প্রদীপ, বাড়ির সবাই খুশি। মেয়েটিরও আনন্দের ঝড় উঠেছিল জীবনে। তবে কিছুক্ষন এর জন্য। তার জীবনে এরকম পরিবর্তন আসতে পারে শিশুমন তখনও জানতো না। ছেলে হওয়ার আনন্দে শুরু হলো মেয়ের ওপর দোষারোপ, “হিংসুটে” “প্রতিহিসাপরায়ণ” “সার্থপর” আরও অনেক কিছু যা কোনো দিন কল্পনাও করেনি মেয়েটা। ক্রমাগত একা হয়ে পড়তে থাকে সে। কেউ নেই তাকে বোঝার মত, একলা থাকতে থাকতে একাকিত্বকে কখন আপন করে নিয়েছে বুঝতেই পারেনি সে। না ছিল কোনো দায়িত্বশীল বান্ধবী, তার কাছে বন্ধু মানেই শত্রু। এমন ভাবে কাটে তার অর্ধেক শৈশব। যৌবনে কোনো প্রেমিক থাকা দণ্ডনীয় অপরাধ বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে তাকে। তবুও নিঃসংগ মন মন দিয়ে ফেলে একজনকে। জানাজানি হয়েযাওয়ায় তাও ফিরে আসতে বাধ্য হয় সে।
নিজের সপ্নগুলো খুন করে মুখ বুজে সব কিছু সহ্য করে এগিয়ে চললো জীবনে। মাধ্যমিক শেষ হয়, উচ্চমাধ্যমিক এসে পড়ে । নতুন স্কুল নতুন বন্ধু, তার মধ্যে দিয়ে একটা বড়োসড় পরিবর্তন আসে, তার সেই প্রাইমারি স্কুলের একটি বন্ধুর সাথে যোগাযোগ হয়, আস্তে আস্তে বুকের ভিতরের কষ্ট গুলো আলগা হতে শুরু করে, তেমন উল্টো দিকের জনেরও একই। বলা বাহুল্য শক্তি পায় ঘুরে দাঁড়ানোর। সমস্ত রকম সমস্যা জীবনে প্রেম, পরিবার। আরো একটু পরিবর্তন বেশ বড়ো সড় ভাবে তাকে সাহায্য করে একাকিত্বকে জয় করার। তার কম্পিউটার স্যার, বয়সে একটু বড়ো, সারা স্কুলের ক্রাশ, হ্যান্ডসাম, অ্যাট্রাক্টিভ, ড্যাশিং। যার কাছে যাবার জন্য সারা স্কুলের মেয়েরা চেষ্টা করে। গায়ে পড়া মেয়েদের মত স্যারের গায়ে আঠার মতো লেগে থাকত না সে। তারই মধ্যে কখন যে সে স্যারের চোখের মণি হয়েউঠেছে বুঝতেই পারেনি। বসন্তের প্রথম কোকিলের ডাক শুনেছিল ওরা। ছাদে বসে একসাথে তারা গুনত। আস্তে আস্তে দিন চলে যায় উচ্চমাধ্যমিক শেষ হয়। যোগাযোগ হারানোর ভয়ে।
ঘটে গেল সেই সর্বনাশ। জেনে গেল মা, ভয় পেয়েও মিথ্যে বলে সে। অমন শক্ত বন্ধুত্ব হারাতে কে ই বা চায়। উল্টোদিকের মানুষটাও ছেয়েছিল সম্পর্ক টা টিকিয়ে রাখতে, জানে সেটা সম্ভব নয় তাও। রাতের পর রাত ঘুম নেই কান্নায় ফেটে আসে। মাঝখানে অনেক বারন থাকা সত্তেও চেষ্টা করে যোগাযোগ রাখার কিন্তু, উল্টোদিক থেকে কোনো সাহায্য পায় না। শেষে থেমে যেতে বাধ্য হয় তারা
শেষ কথাটি বলেছিল ওরা ” তোমার আমার গল্পখানা নাইবা হলো শেষ।
এত দূর তো মিথ্যে নয়, সত্যি ছিল বেশ ”

আজও ওদের দেখা হয় রাস্তার মোড়ে, মন্দিরের বাঁকে। মোহনবাগান ওদের আবেগ, ডার্বি ওদের ভয়, ম্যাচ জেতা আজও ওদের ভালোবাসা। আজও ওরা একই সুতোয় বাঁধা, কোনো না কোনো সূত্র দিয়ে। আজও ওদের শহরে বৃষ্টি পরে, ঝড় ওঠে, শীতের দুপুরে দুজনেই ছাদে রোদ পোহাতে যায়, আজও ছেলেটা সিগারেটটা ধরিয়ে ভাবে মেয়েটার কথা, কিন্তু আগে ওর কথা শুনতে মিথ্যে বলতে হয়না।
আজও হয়েতো স্কুলে টিফিন টাইমে মেয়েটাকে খোঁজে স্যার, বাড়ীতে টিউশন ব্যাচে ওর মতন খামখেয়ালি, উৎুল্লতা দেখতে পায় কারুর মধ্যে, খুব যত্নে এড়িয়ে চলে সেই দুর্বলতার পথ।
অ্যাস্ট্রেতে জমে থাকা ছাই এর মত অভিমানটা সারাজীবন থেকে যাবে ওদের মধ্যে। কোনো একদিন একাকিত্বে ভেসে উঠবে ওদের চোখের কোণে জমে থাকা স্মৃতিধুলো দমকা হাওয়ায় ভাসবে ওরা। ভুলে থাকতে হবে অতীতকে, আলিঙ্গন করার জন্য বর্তমান কে।
দিন কেটে যায় আস্তে আস্তে বড়ো হয়েওঠে মেয়েটি, বাস্তব জ্ঞান সম্পর্কে বোধ হয় যেটা স্যার ছেয়েছিলো। আজও সেই কথা টা কানে বাজে “ইউজ হয়ে যেও না”। তারপর থেকে কত প্রেম এসেছে গেছে কিছুই প্রভাব ফেলেনি.

” ফিরে পাওয়ার সময় ফেরেনি, বসন্ত ফিরেছে বহুবার!
শুধু সে আজও লিখছে নতুন কবিতা! আর আমার কবিতা বাঁচবার”

One thought on “” ফিরে পাওয়ার সময় ফেরেনি, বসন্ত ফিরেছে বহুবার! “”

  1. Subho says:

    Excellent

Leave a Reply

Related Post

রাতের সব তারাই আছে দিনের আলোর গভীরে

“রাতের সব তারাই আছে দিনের আলোর গভীরে”“রাতের সব তারাই আছে দিনের আলোর গভীরে”

“রাতের সব তারাই আছে দিনের আলোর গভীরে”   রাতের নিঃশব্দ নিশ্চুপ অন্ধকার গুলো যেন একটা চেনা আওয়াজ খোঁজে …. না শুধুই কি রাত দিনের সূর্য কোলাহল সব তো একই তাও

আজ মন বারেবার ফিরে পেতে চায় হারিয়ে যাওয়া প্রাক্তন কে।

আজ মন বারেবার ফিরে পেতে চায় হারিয়ে যাওয়া প্রাক্তন কে।আজ মন বারেবার ফিরে পেতে চায় হারিয়ে যাওয়া প্রাক্তন কে।

আজ মন বারেবার ফিরে পেতে চায় হারিয়ে যাওয়া প্রাক্তন কে।              ১১ ই নভেম্বর, তিথির জন্মদিনের আগের দিন হঠাৎই দুপুরবেলা আলোকের ফোন। বড্ড অবাক হয়ে

কিছু ক্ষন পর রিপ্লাই এলো " eyeliner "

কিছু ক্ষন পর রিপ্লাই এলো ” eyeliner “কিছু ক্ষন পর রিপ্লাই এলো ” eyeliner “

কিছু ক্ষন পর রিপ্লাই এলো  “eyeliner” তখন রাত ২:৪৫ ড্রেসিং টেবিলের প্ল্যানটা সবে শেষ হলো। তার সাথে কথা বলতে বলতে কিছুক্ষন চুপ করে গেছি পরের আঁকা শুরু করতে। রিপ্লাইটা পেতে

%d bloggers like this: